দৈনিক জনকণ্ঠে - দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে এমন একটি লেখা দৈনিক জনকণ্ঠে আজ দুই নভেম্বর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি

0
দৈনিক জনকণ্ঠে - দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে আমার একটি লেখা দৈনিক জনকণ্ঠে আজ ২ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে প্রকাশিত হয়। 


বাজার দরের আকস্মিক ঊর্ধ্বগতির সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটতে পারছে না সাধারণ মানুষ বরং পদে পদে হোঁচট খাচ্ছে, কারণ দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিকই কিন্তু আয় বাড়ছেনা, নিত্যপন্যের দাম বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ তাদের খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে। বাধ্য হচ্ছে নিজের চাহিদা বর্জন করতে। গরুর মাংস বা দেশী মোরগ যেন তাদের কাছে বিলাসিতা, আর খাসির মাংস খেতে হলে যেতে হয় কল্পনার রাজ্যে। এসবের বিকল্প ছিলো ছোট মাছ, ডিম, আলু আর মৌসুমি সবুজ সবজি কিন্তু বর্তমান বাজার দরের কাছে রীতিমত অসহায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তাগন। এখন আলো কেজি ৬০ টাকা আর মোটা চাল কেজিও ৬০ টাকা, বাজারে পণ্য থাকলেও আগের মতো ক্রেতা নেই, আর ৭০ টাকার নিচে সবজী নেই।

 

শাঁক সবজী যেখানে শেষ ভরসা তাতেও যেন আগুণ লেগেছে, কেনা তো দূরে থাক দর জিজ্ঞাসা করতেও ভয় পায় সাধারণ মানুষ। মৌসুমি সবজীর দাম কিছুটা কম থাকলেও সময়ের সাথে তাও বৃদ্ধি পেতে কালক্ষেপণ করেনা। এমন পরিস্থিতির জন্য কিছু অসাদু ব্যবসায়ী, মজুতদার ও সিণ্ডিকেটকে দায়ী করছে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর। কিন্তু সাধারণ মানুষের কষ্ট বুঝে পদক্ষেপ নেয়ার মতো কোনো মহলকে দেখা যায় না, সরকারের বড় বড় আমলা আর মন্ত্রীরা তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারছে না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর খুচরা কারবারিদের ব্যবসায় ভোক্তা অধিদপ্তর প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করে, যাকে সাধারণ মানুষ নিছক লোক দেখানো কাজ বলে আখ্যায়িত করছে। এমনিতেই সংরক্ষণের ভালো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর ৩০ শতাংশ খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়, আর এই অবস্থায় মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে পণ্য বিক্রি না করে উল্টো খাদ্যপণ্য নষ্ট করলে আগামীর অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে।

 

সরকারের উচিৎ এখনই সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অবৈধ মজুতদার, ও সিণ্ডিকেটের মূল উৎস অতি দ্রুত খোঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। সংশ্লিষ্ট অফিসের ক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে শতভাগ মাঠে বাস্তবায়ন করা, প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদন খরচ যাচাই করে সরকার কর্তৃক পাইকারি ও খুচরা বাজারের দর নির্ধারন করে দেয়া, এতে একদিকে প্রকৃত ন্যায্য মূল্য পাবে খেটে খাওয়া কৃষক এবং কমবে মধ্যস্থতাকারীর কমিশন, সেইসাথে নিজের আঙ্গিনায় শাঁক সবজী চাষাবাদ করা ও সরকারের দিক নির্দেশনা মেনে চলা, তাহলেই বাজারে আবার আসবে স্থিতিশীলতা। হাঁসি মুখে সন্তান ও বৃদ্ধ পিতামাতার মুখে তুলে দিতে পারবে ২ বেলা খাবার।

 

 

মোঃ আরিফ উল্লাহ,

লেখক ও উন্নয়নকর্মী

কোস্ট ফাউন্ডেশন, কক্সবাজার সদর, কক্সবাজার।

Email: arifcbiu@gmail.com



Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)