আকস্মিক বন্যা ও আমাদের করণীয়

0

 


এখন সময় আলোচনা কিংবা সমালোচনার নয়, সকলকে স্বাধ্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে বন্যা কবলিত এলাকায়। যথা সম্ভব জান মালের ক্ষয় ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সকল মিডিয়াতে ধর পাকড় আর মামলা হামলার খবরের ভিড়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে বন্যার সংবাদ। আমাদেরকে সকল দিকের খোঁজ-খবর রাখতে হবে। বন্যায় গৃহহীন ভাই বোনদের পাশে দাঁড়াতে হবে। চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলার হালদা ও মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে ফেনী জেলার কয়েক উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশের বেশী গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। জানা গেছে এক রাতেই প্লাবিত হয়েছে শতাধিক গ্রাম, এরি মধ্যে ফেনীতে এক শিশু ও এক গর্ভবতী নারী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছে একজন। 

 

অন্যদিকে ভারত থেকে আসা পানি ও অনবরত বৃষ্টির কারণে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৪৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রায় চার হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, এছাড়াও ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় তলিয়ে গেছে প্রায় ৩০ টি গ্রাম, মৌলভী বাজারে ৩টি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানিবন্দি হয়ে আছে ২ লক্ষাধিক মানুষ, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও খাগড়াছড়িতে বন্যার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো এই পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সেইসাথে বন্যার সম্মুখীন হতে পারে আরো নতুন নতুন জেলা। যেহেতু বৃষ্টি আরো কয়েকদিন স্থায়ী হবে তাই এই বিষয়টিকে আরো আন্তরিকভাবে দেখতে হবে।

 

এমন আকস্মিক বন্যার ফলে ভেঙে গিয়েছে বিভিন্ন নদ-নদীর বেড়ীবাঁধ ও সেতু, খাগড়াছড়িতে আটকা পড়ে আছে ২৫০ জন পর্যটক, ব্যহত হচ্ছে অফিস আদালতের কার্যক্রম, পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পত্র। সবচেয়ে বেশী ক্ষতির শিকার হবে আমাদের কৃষক ভাইয়েরা। তলিয়ে গেছে কৃষি জমি, পুকুর, মারা গেছে হাজার হাজার হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু, নষ্ট হচ্ছে বসত বাড়ী। যাতায়াত সুবিধাও, এরি মধ্যে ভেঙে পড়েছে অনেক এলাকায়। সুপেয় পানি সংকট, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এমতাবস্থায় এই এলাকায় ত্রাণ সরবরাহের কার্যক্রম পরিচালনা করতেও দারুণভাবে বেগ পেতে হবে। বাংলাদেশ সেনা বাহিনী, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। সেই সাথে হটলাইন সার্ভিস চালু করেছে।

 


এমন ক্রান্তিলগ্নে আমাদের সকলের উচিত এই আকস্মিক বন্যা থেকে জান মাল রক্ষায় নিজেদের সর্বোচ্চ নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো। সরকারের পাশাপাশি প্রভাবশালী ও প্রতাপশালী ব্যক্তিদের এই কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার বিরাট সুযোগ, এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থাগুলো। বন্যার কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন জেলা ও উপজেলায় পর্যাপ্ত শুঁকনো খাবার, সুপেয় পানি, মোমবাতি বা টর্চ লাইটের সরবরাহ করা যেতে পারে। কাল বিলম্ব না করে সম্ভাব্য নতুন জেলায় আগাম সতর্ক বার্তা পৌঁছে দেয়া ও তাদেরকে মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য উৎসাহ প্রদান করা। তাদের কাছে হট লাইন নাম্বার পৌঁছে দেয়া। আশে পাশের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা।

 

যে সকল এলাকাসমূহ প্লাবিত হয়েছে সেখানে দ্রুত যোগাযোগ করা যায় এমন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে করে দূরবর্তী ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকায় স্বল্প সময়ে ত্রাণ ও চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া যায়। বিচ্ছিন্ন ভাবে ত্রাণ না দিয়ে যেকোনো দপ্তরের মাধ্যমে সমন্বয় করে ত্রাণ কার্য পরিচালনা করা। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে কাল বিলম্ব না করে রাস্তা, সেতু, বসত বাড়ী, অফিস আদালত জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এখন থেকে প্রস্তুতি রাখা। বন্যা চলাকালীন ও বন্যা পরবর্তি রোগ বালাই থেকে মুক্তি পেতে ইউনিয়ন ভিত্তিক মেডিকেল গঠন করা। আমাদের দেহের একটি অঙ্গ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে যেমন আমরা ভালো থাকি না, ঠিক তেমনভাবে আমাদের দেশের কোনো জেলা যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন সারা বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যা যেমন আকস্মিক আমাদেরকেও আকস্মিকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

লেখকঃ

মোঃ আরিফ উল্লাহ

গবেষক ও উন্নয়নকর্মী

arifcbiu@gmail.com

Tags

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)