মোঃ আরিফ উল্লাহ
ইউনিয়ন পরিষদ বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে
কাজ করছে। বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের কাছে ইউনিয়ন পরিষদের চাহিদা আরো বৃদ্ধি করতে
বদ্ধপরিকর, জাতীয় পরিচয় পত্র, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কার্যকারিতা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে
ইউনিয়ন পরিষদের চাহিদাও মানুষের কাছে ততটা
গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের কাছে প্রজাতন্ত্রের সকল সেবা পৌছে
দিতে ইউনিয়ন পরিষদকে আরো অত্যাধুনিক ও চাহিদা সম্পন্ন করে তুলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তারই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ
অন্যান্য সকল বিষয় যেমন নিরাপত্তা, কৃষি, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিচার এলজিইডি, বিআরডিবি
পশুসম্পদ, আনসার ভিডিপি, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা বিভাগসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোর
কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এক কথায় জনবান্ধব এক প্রতষ্ঠান গড়ার লক্ষে কাজ করে
চলেছে বর্তমান সরকার। কিন্তু কিছু অদক্ষ ও ক্ষমতা লোভী জনপ্রতিনিধির কারণে সাধারণ মানুষ
ইউনিয়ন পরিষদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আর সেই সাথে সরকারে প্রচেষ্টা বৃথা যাচ্ছে।
জনপ্রতিনিধি বলতে বুঝায় জনগনের প্রতিনিধিত্ব করা। সাধারণ মানুষের তরে কাজ করা, তাদের ভালো-মন্দ সকল পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ানো, কিন্তু বর্তমান সময়ে ক্ষেত্র বিশেষে তাদেরকে অন্য রূপে দেখা যায়। যেমন নিজেকে জাহির করা, গ্রামে/নিজ ওয়াডে ক্ষমতা প্রদর্শন করা, এলাকায় নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই যেন তার কাজ। আর এই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিজ অসহায় মানুষকে হুমকি দেয়া, আইনের তওয়াক্কা না করে মানুষের উপর হামলা করার ঘটনা অহরহ ঘটেই চলেছে। তারা নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখেন না, নিজের দ্বায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে তারা বেমালুম।
স্থানীয় সরকার বা ইউনিয়ন পরিষদ অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ধারা নং ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৩ নং
ধারায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যাবলী তুলে ধরা হয়েছে,
যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের কাজসমূহকে ৫ ভাগে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই পাঁচ ধরনের কাজকে আবার
দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেমন বাধ্যতামূলক কার্যাবলী ও ঐচ্ছিক কার্যাবলী, যেখানে ১০
টি বাধ্যতামূলক কার্যাবলী এবং ৩৮ টি ঐচ্ছিক কার্যাবলী রয়েছে। বাধ্যতামূলক কাজের মধ্যে
আইন শৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষা এবং জনগণের উন্নয়নে কাজ করার দিকগুলিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া
হয়। কিন্তু আমরা মাঝে মধ্যে এমন কিছু ঘটনার সাক্ষী হই যা কখনোই কারো কাম্য নয়। অন্যদিকে
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৪ ধারার উপধারা
১ নং এ বলা হয়েছে “যে ক্ষেত্রে কোন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্যের বিরুদ্ধে উপ-ধারা
(৪) এ বর্ণিত অপরাধে অপসারণের জন্য কার্যক্রম আরম্ভ করা হইয়াছে অথবা তাঁহার বিরুদ্ধে
ফৌজদারী মামলায় অভিযোগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হইয়াছে অথবা অপরাধ আদালত কর্তৃক আমলে
নেওয়া হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের মতে চেয়ারম্যান অথবা সদস্য কর্তৃক
ক্ষমতা প্রয়োগ পরিষদের স্বার্থের পরিপন্থী অথবা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন না হইলে,
সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে চেয়ারম্যান অথবা সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করিতে পারিবে”।
এখানে এই বিষয়টি স্পষ্ট যে জনপ্রতিনিধি কখনোই এমন কোনো কাজ করতে পারবেনা যা ফৌজদারী
অপরাধের সামিল বলে গণ্য হয়। একই ধারার ৪ নং উপধারার (ঘ) “অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের
দোষে দোষী হন অথবা পরিষদের কোন অর্থ বা সম্পত্তির কোন ক্ষতি সাধন বা উহার আত্মসাতের
বা অপপ্রয়োগের জন্য দায়ী হন;”তাহলে চেয়ারম্যান বা সদস্য তার পদ হতে অপসারণযোগ্য অপরাধ
করেছে বলে গণ্য হবে। এই আইনকে একটু চিন্তা করলে পানির মতো স্বচ্ছ একটি বিষয় উঠে আসে
আর তা হলো জনপ্রতিনিধি নিতান্তই জনগণের
প্রতিনিধিত্ব করবেন, শাসন কিংবা শোষণ নয়।
এতো সুন্দর স্পষ্টভাষী আইন থাকার পরেও বিভিন্ন সময় আমরা দেখি জনপ্রতিনিধিরা
বিভিন্ন সময় তাদের মতামতকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চাপিয়ে দিতে চায়, উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত
প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে বাধা দেয়, সাধারণ মানুষকে ভয় ও হুমকি দেয়। মাদক ব্যবসাসহ অন্যান্য
অনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত থাকে। এর কারণ হিসেবে যে বিষয়গুলির কথা না বললেই নয় তা হল,
আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা না থাকা, যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে না পারা, যোগ্যতাসম্পন্ন
প্রার্থীর অভাব, প্রার্থীদের দক্ষতার অভাব ইত্যাদি। অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে
সাধারণ মানুষকে আইন ও গণতন্ত্র সম্পর্কে জানাতে হবে, তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা
সৃষ্টি করতে হবে, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরো যত্নবান হতে হবে। শিক্ষিত ও দেশপ্রেমী
প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে, তাহলেই কেবল বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। এর
মধ্যে সস্থির কথা হলো আমাদের মধ্যে অনেক দেশপ্রেমী, উদ্যমী ও পরিশ্রমী ইউনিয়ন পরিষদ
চেয়ারম্যান ও সদস্য আছে যাদের কারণে অনেক ইউনিয়নে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। যা আমাদেরকে
আরো স্বপ্ন দেখতে উৎসাহী করছে।
লেখকঃ
মোঃ আরিফ ঊল্লাহ
উন্নয়ন
কর্মী,
ইমেইলঃ
arifcbiu@gmail.com
