যেমন ব্যবসা করতে বলেছেন
রসূল (সঃ)
ইসলাম ধর্মে ব্যবসাকে হালাল
করেছে, ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জনকে সর্বোত্তম উপার্জন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইসলাম ধর্মে ব্যবসার সংজ্ঞা খুবই সহজ ও সুন্দরভাবে
দেয়া হয়েছে, ব্যবসা হচ্ছে ক্রেতা বিক্রেতার সম্মতিক্রমে
সংগঠিত লেনদেন যেখানে অবৈধ গুদামজাতকরণ, মিথ্যার আশ্রয় নেয়া, ভেজাল পণ্য সরবরাহ, অধিক
দাম নির্ধারন ইত্যাদি বিষয়সমূহ অনুপস্থিত। কিন্তু
আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা নিতান্তই নিজের মুনাফা আর সার্থের হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত থাকেন।
নিজেদের সার্থের জন্য সিন্ডিকেট তৈরি করা, অবৈধভাবে পণ্য মজুদ করে কিতৃম সংকট তৈরি
করা, নিছক অজুহাতে পন্যের দাম বৃদ্ধি করা, ক্রয় মূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে মুনাফা
করা। পুরনো পণ্য দাম বৃদ্ধি সাপেক্ষে নতুন পন্যের দামে বিক্রি করা। পাইকারি বাজার ও
খুচরা বাজারে পন্যের মূল্যে ভারসাম্য না থাকা। এসকল বিষয়ে সর্বস্থরের মানুষ এখন ওয়াকিবহাল।
অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওতায়ালা সূরা নিসা এর
২৯ নং আয়াতে বলেছেন ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে
অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। শুধু তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা
করো তা বৈধ।’ বর্তমানেও কেনাকাটা সম্মতিক্রমেই হয়, শুধু এখানে ক্রেতা না চাইলেও সম্মতি
দিতে বাধ্য কারণ সবাই এখন বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটে জিম্মি।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, এই ধর্ম মানবিকতার শিক্ষা দেয়,
এখানে লোভীদের তিরস্কার করা হয়েছে, উদারতাকে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। সারাবিশ্বে মুসলিম দেশের
ব্যবসায়ীরা যখন পবিত্র মাহে রমযানকে সামনে রেখে তাদের পন্যের মূল্য হ্রাস করায় প্রতিযোগিতা
করে, সেখানে আমাদের ব্যবসায়ীরা এই মাসকে কেন্দ্র করে অতি মুনাফার আশায় ৫০০ টাকার পন্যে
১২০০ টাকার নকল স্টিকার লাগিয়ে ৩০০টাকা ডিস্কাউন্ট দিয়ে ৯০০ টাকা বিক্রি করে। অন্যদিকে
নিত্যপন্যের দাম হয়ে যায় আকাশচুম্বী, খেটে খাওয়া মানুষরা তাদের পরিবার চালাতে অন্য
সময়ের তুলনায় আরো বেশী অসহায় হয়ে পড়ে। কিছু লোভী ব্যবসায়ীদের কারণে এমন হাজারো পরিবার
না খেয়ে রোজা রাখছে। নিজের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ইফতার করছে, যেখানে ২টি খেজুরও ঠাই
পাচ্ছে না, মা-বাবা সন্তানের মুখে হাঁসি ফুঁটাতে পাড়ছে না। অসহায় পিতা সন্তানের চাহিদা
মেটাতে মুরগির পরিবর্তে মুরগির পা, ঘিলা-কলিজা নিচ্ছে, অনেক পিতা তার সন্তানকে একটি
নতুন কাপড় কিনে দিতে পারে না। ঈদের দিন পরিবারকে মিষ্টিমুখ করাতে পারেনা। এই পিতার
অপারগতার পিছনে যেই লোভী ব্যবসায়ীরা দায়ী তাদেরকে কে সচেতন করে তুলুবে? হতভাগা এই পিতার
দুঃখ সেই ব্যবসায়ীভাইদের কে বুঝাবে? অথচ সহিহ
মুসলিমের হাদীস নং ১০২ এ রসূল (সঃ) ব্যবসায়ে প্রতারণা ও ধোঁকা দেয়াকে কঠোরভাবে নিষেধ
করেছেন, তিনি বলেন “যে ধোঁকা দেয় সে আমার
উম্মত নয়”। কিন্তু আমরা ব্যবসায়ীরা ক্রেতার কথা মাথায় রাখতে চাইনা উল্টো খারাপ পণ্য
কিভাবে ক্রেতাকে দ্রুত বিক্রি করা যায় সেই চিন্তা আমাদের মাথায় ঘুরপাক খায়।
বছর জোড়ে লাগামহীন নিত্যপন্যের
দামে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ, আয়ের চেয়ে ব্যায় বেশী, তাই স্বল্প আয়ের মানুষের মাথায় হাত
কিন্তু আমাদের ব্যবসায়ী মহল এসকল বিষয়ে কর্ণপাত করেনা। তাদের উদ্দেশ্যে —রাসুল (সা.)
এরশাদ করেছেন, ‘জঘন্য অপরাধী ছাড়া কেউ-ই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি (মূল্য বৃদ্ধির
আশায়) মজুত করে না।’হাদিস টি বর্ণিত হয়েছে “আবু দাউদ” শরিফের ৩৪৪৭ নং হাদিসে। অন্যদিকে
নিয়মিত মনিটরিং, সিন্ডিকেট ভাঙ্গা, দ্রব্যমূল্যের
দাম কমাতে উক্ত পণ্য আমদানি করা হচ্ছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, বলে সাধারণ মানুষকে
আশা দিয়ে তা পূরণ করতে পাড়ছে না সরকার। এখনো সিন্ডিকেট নামক সামাজিক ব্যাধির প্রতিষেধক
আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়নি যার কারণে সরকারের এমন কথায় এখন জনগণ প্রভাবিত হয় না। আর
প্রচলিত অভিযান চালিয়ে কখনোই দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানা যাবেনা। সরকারকে ব্যবসায়ীক সকল
বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হবে যা কখনোই সম্ভব নয় অন্যথায় বাজার ব্যবস্থাপনায় নতুন কোনো
পদ্বতি চালো করতে হবে, কিন্তু অল্প সময়ে নতুন পদ্বতিতে পা দেয়া মোটেও সহজ বিষয় নয়।
তাই এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজন ব্যবসায়ী মহলের সচেতনতা ও মানবিকতা। ব্যবসায়ীরা
মানবিক হলেই কেবল এই সমস্যার সমাধান হবে।
মোঃ আরিফ উল্লাহ
গবেষক ও উন্নয়ন কর্মী,
কোস্ট ফাউন্ডেশন,।
ইমেইলঃ arifcbiu@gmail.com
#arifcbiu

